Logo
×

বিবিধ

বাতিল হতে পারে গণভোট অধ্যাদেশ; ইবির ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্বেগ

Icon

নাজমুস সাকিব, ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩২

বাতিল হতে পারে গণভোট অধ্যাদেশ; ইবির ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্বেগ

গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি'র সরকার। এর ফলে আগামী ১২ এপ্রিল এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি জানান, অধ্যাদেশের মাধ্যমে ইতোমধ্যে গণভোট সম্পন্ন হওয়ায় এবং ভবিষ্যতে এর কোনো প্রয়োগ না থাকায় তা সংসদে পাস করার প্রয়োজন নেই। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।


এ নিয়ে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, যদি এই অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সেটা জুলাই সনদের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কারণ বর্তমানে যে সংসদ গঠন করা হয়েছে, সেই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটও হয়েছে। এখন যদি কেউ এই গণভোটের ফলাফল বা জুলাইয়ের সেই সিদ্ধান্তকে সংসদে অস্বীকার করে, কিংবা অসাংবিধানিকভাবে পাশ কাটানোর চেষ্টা করে, তাহলে সেটা খুবই উদ্বেগজনক। প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ সরাসরি “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং বিএনপির নেতারাও প্রকাশ্যে এই “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে; এনসিপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছে। 


তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই পরিবর্তনের আশায় গণভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বিএনপি সরকার যদি এই গণভোটের রায় অস্বীকার করে কোনোভাবে অধ্যাদেশ বাতিল বা জাতীয় সংসদ সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে, তাহলে এটি হবে জনগণের রায়ের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা। যে জনগণ গণভোটে অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছে, তাদের সাথে এটি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হবে। প্রায় ২০০০ শহীদ ও মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকেও এতে অস্বীকার করা হবে। 


শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, এ দেশের মোট কাস্টিং ভোটের প্রায় ৭০% গণভোটে “হ্যাঁ”-এর পক্ষে, অর্থাৎ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। যদি গণভোটকে অসাংবিধানিক বলা হয়, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বর্তমান সরকার উভয়ই প্রশ্নবিদ্ধ ও অবৈধ হয়ে পড়ে। বিগত খুনি হাসিনা সরকারের শাসনামলে যারা আগে আন্দোলনের ডাক দিয়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি, তারাই আজ ক্ষমতায় এসে জুলাই সনদ অস্বীকার করছে এবং গণভোট বাতিলের কথা বলছে, যা নিঃসন্দেহে জনগণের সাথে প্রতারণা ও মুনাফেকির শামিল।


জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, যেখানে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে গণভোটকে বিজয়ী করেছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকার গঠনে নিজেদের মতামত সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন, সেখানে সেই জনমতকে উপেক্ষা করে সংসদে গণভোট অধ্যাদেশ গ্রহণ না করা বা তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার শামিল এবং এতে করে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে জনগণের মতামত, সেই মতামতকে অগ্রাহ্য করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।


শাখা ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ইসমাইল রাহাত বলেন, আমাদের সংগঠন সবসময় জনগণের রায়ের পক্ষে এবং জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই জায়গা থেকে জনগণের মতামত উপেক্ষিত হলে আমরা আশঙ্কা করি, আবারও পুরোনো বা ফ্যাসিবাদী ধারার রাজনীতি ফিরে আসতে পারে। আমরা চাই, সরকার জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তুলুক।


শাখা খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ খান বলেন, গণভোটকে উপেক্ষা করা মানেই জনগণকে উপেক্ষা করা। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে গৃহীত গণরায়কে উপেক্ষা করা চরম অগণতান্ত্রিক, অন্যায় এবং জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সরাসরি অবমাননা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘গণভোটের কার্যকারিতা শেষ’ এমন মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।